কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি

    টেক্সট মেসেজ


    টেক্সট মেসেজের চে ভয়ঙ্কর জিনিস এই পৃথিবীতে আর একটাও নাই, বিশ্বাস করেন। 

    কারণ টেক্সটে শুধু শব্দ লেখা যায়, শব্দের সাথে মায়া মেশানো যায় না, অভিমান মেশানো যায় না, ভালোবাসাও মেশানো যায় না। 

    ফলে মেসেজের যোগাযোগ হয়ে পড়ে রোবটের যান্ত্রিক একটা যোগাযোগ। যে যোগাযোগে লজিক থাকে, ইমোশন থাকে না। 

    কিন্তু মানুষ তো আর লজিক্যাল প্রাণী না। ফলাফল? মেসেজের কম্যুনিকেশনে একে অপরকে বোঝার চে ভুল বোঝাটা হয় বেশি। 

    এখানে শুধু শক্ত কথাটাই বলা যায়, বাট ঐ শক্ত কথা বলতে যাইয়া আপনার যে চোখে জল চলে আসছে, সেইটা দেখানো যায় না। 

    এইখানে শুধু বকা দেওয়া যায়, বকা শোনাও যায়, রাগ দেখানো যায়, আরেকজনকে কষ্টও দেওয়া যায়। কিন্তু আরেকজনকে কষ্ট দিয়ে ফেলার পর আপনি নিজে কতটা কষ্ট পান, সেইটা মেসেজে বোঝানো যায় না। 

    তাই মেসেজে আমরা শুধু কথার পর কথা পাই, কথার সাথের মায়াটা পাই না। 

    খেয়াল করলে দেখবেন, যে শক্ত কথাটা, বাজে কথাটা আপনি মেসেজে অবলীলায় লিখে ফেলতে পারেন, ঐটা আপনি মুখে বলতে পারবেন না।বেঁধে যাবে। আবার ভয়েজ কলেও যে ভাষায় আপনি ঝগড়া করে ফেলতে পারেন, সামনাসামনি আরেকজনের চোখের দিকে তাকিয়ে সেই সেইম ঝগড়াটাই আর করতে পারবেন না। মায়াও লাগবে, লজ্জাও লাগবে। 

    মেসেজ জিনিসটা আমাদের রোবটিক করে ফেলে। রোবটের কথা শুনেছেন? কথায় কোন কৌতুহল নাই, মায়া নাই, মমতা নাই। মেসেজও ঠিক অমন। 

    এখানে ইথারে ভেসে যাওয়া কিছু যান্ত্রিক বাইনারি শব্দ থাকে, বাট এখানে কোন ভালোবাসা থাকে না। ফলে অল্প রুড কথাও এখানে শোনায় অনেক বেশি রুড। মেসেজে তাই রুডনেস দেখানো যতটা সহজ, ভালোবাসাটা দেখানো ততটাই কঠিন। 

    কাজেই, মেসেজ দেখে বা মেসেজ পড়ে কোন ডিসিশান নিলে সেই ডিসিশানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। 

    এই চ্যাটিং এর সুযোগ শুধু আমাদের ভেতরে কম্যুনিকেশনের সুযোগটাই বাড়ায় নাই, বরং বাড়িয়ে দিয়েছে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগও। 

    যে আর্গুমেন্ট সামনাসামনি করলে হাসতে হাসতে, একে অপরকে খোঁচাতে খোঁচাতে বা কথার ফাঁকে ছোট্ট একটা চুমুতে ঠান্ডা হয়ে যেত, সেই আর্গুমেন্ট মেসেঞ্জারে বা হোয়াটস্যাপে করতে গেলে তখন ঐটা রূপ নেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে। 

    আগেই বলেছি, মানুষ লজিক্যাল প্রাণী না, মানুষ দিনশেষে ইমোশনাল প্রাণীই। 

    মেসেজকেই যারা সবকিছুর সমাধান হিসেবে মানেন, তাদের এই ব্যাপারে সাবধান থাকা প্রয়োজন। অনেক ঝামেলা, অনেক মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং মেটানোর জন্য অনেক সময় একটা আলিঙ্গনই যথেষ্ট, কথাটা আমরা সবাই জানি। 

    তাই যেই কথার মাঝে আলিঙ্গন দরকার, স্পর্শ দরকার, সেই কথা মেসেজে না বলে সামনাসামনি বলাটাই বেটার না? 

    কারণ, মেসেজে হাজার কথা বলা যায়, সেকেন্ডে দশটা শব্দ টাইপ করা যায়, বাট হাজার চেষ্টা করলেও টেক্সটে একটা আলিঙ্গন করা যায় না। 

    যেখানে আলিঙ্গন নাই, স্পর্শ নাই, মায়া নাই, মমতা নাই, সেটা বড়জোর রোবটের প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, মানুষের প্ল্যাটফর্ম কীভাবে হয়?


    সংগৃহীত 

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    নবীনতর পূর্বতন

    نموذج الاتصال