ফজরের আযান ধ্বনিত হচ্ছে। আকাশে তখনও হালকা আঁধার, চারপাশ নিস্তব্ধ। আলি বিছানা থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকায়। বাতাসে এক ধরনের প্রশান্তি, এক অদ্ভুত প্রশান্তি। কারণ, কিছুদিন পরেই সেই মাহে রমজান আসছে— আত্মশুদ্ধির মাস, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস।
আলি মনে মনে ভাবতে থাকে, “এই মাস আমার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? আমি কি সত্যিই রমজানের যথাযথ হক আদায় করতে পারছি?” তার মনের কোণে একটা ভয় কাজ করে— যদি এটা আমার জীবনের শেষ রমজান হয়? যদি আল্লাহ আর আমাকে এই বরকতময় মাস উপহার না দেন?
রমজান শুধুই সেহরি-ইফতারের মাস নয়, বরং এটা আত্মার পরিশুদ্ধির মাস। সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকা শুধু বাহ্যিক সংযম, কিন্তু আসল রোজা হলো মন, চিন্তা ও চরিত্রকে আল্লাহর জন্য পরিশুদ্ধ করা। আলির দাদা সবসময় বলতেন, “রমজান হলো তোমার জীবনের জন্য একটা নতুন সূচনা। এই মাসে তুমি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পাও। এটা হলো তোমার আত্মার প্রশিক্ষণের মাস।”
আলি ছোটবেলা থেকেই দাদার মুখে রমজানের ফজিলত শুনে এসেছে। তিনি বলতেন, “এই মাসে আল্লাহ অসংখ্য গুনাহ মাফ করে দেন। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়।”
আলি এবার সংকল্প করে, “আমি এবার রমজানে শুধু রোজা রাখব না, বরং কুরআন পড়ব, বেশি বেশি নফল ইবাদত করব, নামাজে মনোযোগী হব। গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়াব। কারণ, রমজান মানে শুধু ক্ষুধার কষ্ট পাওয়া নয়, বরং ক্ষুধার্ত মানুষের অনুভূতিকে হৃদয়ে ধারণ করা।”
রমজান আসে আমাদের জীবনে এক নতুন পরিবর্তন আনার জন্য। কেউ হয়তো এই মাসে পাপ থেকে ফিরে আসে, কেউ হয়তো প্রথমবারের মতো নিয়মিত নামাজ পড়তে শুরু করে, আবার কেউ হয়তো কুরআনের আয়াতগুলোর গভীর অর্থ অনুধাবন করতে শেখে। আলি মনে মনে বলে, “আমি যেন সত্যিকারের রমজান পালন করতে পারি, যেন এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় হয়ে ওঠে।”
রমজানের প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান। প্রতিটি রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। তাই আসুন, আমরা সবাই প্রস্তুত হই, যেন এই রমজান আমাদের জন্য সত্যিকারের আত্মশুদ্ধির মাস হয়ে ওঠে।
রমজান মোবারক!
